সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শ্রম আইন অনুযায়ী চার সদস্যের এ বোর্ডের গেজেট শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার।

তিনি রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, “১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে (মালিক প্রতিনিধির জন্য) বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন ও (শ্রমিক প্রতিনিধির জন্য) শ্রমিক দলের নেতাদের কাছে নাম চাওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছিল শিগগিরই যেন নাম পাঠায়। আজ (রোববার) পর্যন্ত আমরা কোনো নাম পাইনি।”

কবে নাগাদ মজুরি বোর্ড গঠন হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি সচিবালয়ে বলেন, “আমরা তো বলেছি শিগগির নাম পাঠাতে, তারা নাম পাঠানোর পরপরই আমরা বোর্ড গঠন করে ফেলব।”

এ সময় পাশেই ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আলোচনা শুনে মন্ত্রী বিষয়টি জানতে চান।

সচিব তখন আবারও মজুরি বোর্ড গঠনের কথা বললে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো রেডি, নাম আসুক।”

এ সময় পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা বলেন, “কালকে নাম আসলে পরশুই আমরা বসব।”

এ সপ্তাহে বোর্ড গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা রোববার বলেন, “কালকের মধ্যে নাম আসলে, সেটা সম্ভব।”

এ বোর্ডের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য সচিব রাইসা আফরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, “(শ্রম আইনে) ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ধারা ১৩৮ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান, নিরপেক্ষ সদস্য, মালিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। এই চারজনকে নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন হবে, যারা ফিক্সড থাকবেন।

“আর প্রত্যেক সেক্টর যেমন তৈরি পোশাক খাত, সেই বোর্ডের মিটিংয়ের সময় পোশাক খাতের বা সংশ্লিষ্ট সেক্টরের একজন মালিক ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধি যুক্ত হবেন। অর্থাৎ মজুরি বোর্ড প্রথমত চারজন দিয়েই গঠন করা হবে।”

বর্তমানে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।

শ্রম আইনের ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিল্পের মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ অথবা উভয় পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সেই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির হার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে।

সুনির্দিষ্ট কোনো শিল্পের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেই শিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা বোর্ডের সঙ্গে কাজ করেন।

সরকারি পে-স্কেলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

কয়েক দিন আগে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা।

তাদের ভাষ্য, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন করা ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়েছে।

নাম পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, ফেডারেশনের তরফে পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ডের জন্য মালিক প্রতিনিধি হিসেবে তিনজনের নাম ও সব শিল্পের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধির নাম সোমবার জমা দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক প্রতিনিধির তিনজনই বিএনপি নেতা

মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য গঠন হতে যাওয়া মজুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে শ্রমিকদের প্রতিনিধির নাম পাঠানোর জন্য শ্রম অধিদপ্তর থেকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়।

নাম পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘মজুরি বোর্ডের একজন শ্রমিক প্রতিনিধির জন্য তারা তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছেন।’’

এ তিনজনই শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা বলেও জানান আনোয়ার হোসেন।

তারা হলেন—জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কহিনুর মাহমুদ ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম।

টিসিসি বৈঠক মঙ্গলবার

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভা মঙ্গলবার হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “ওই সভায় শ্রমিকপক্ষ, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মজুরি বোর্ড গঠন এবং শ্রম বিধিমালা প্রণয়নসহ সাম্প্রতিক শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।”

চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় পরের মাসে। সেই হিসাবে পোশাক খাতের বর্তমান নিম্নতম মজুরি হারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মাসে।

২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোয় সাতটির বদলে পাঁচটি গ্রেডও করা হয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: